প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ১২:৩০ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার অর্থায়নে বড় ঘাটতি, ডিজিটাল ঋণে নতুন সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগে (এসএমই) প্রায় ২৮০ কোটি মার্কিন ডলারের বিশাল অর্থায়ন ঘাটতি রয়েছে। প্রায় ৭১ লাখ ৬০ হাজার এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হলেও পর্যাপ্ত ঋণের অভাবে এদের বড় অংশই বিকাশ লাভ করতে পারছে না। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ‘ইকোসিস্টেম ম্যাপিং অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক স্টাডি অন এমএসএমই ফাইন্যান্সিং ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য উঠে আসে।

দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের ‘ব্রিজিং দ্য গ্যাপ’ প্রকল্পের আওতায় লাইট ক্যাসেল পার্টনার্স পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা যায়, দেশের ৯২.৬ শতাংশই ক্ষুদ্র উদ্যোগ হলেও তারা মোট বিতরণ করা এসএমই ঋণের মাত্র ১৪ শতাংশ পায়। জরিপে অংশ নেওয়া ৯৫.২ শতাংশ ব্যবসাই চরম অর্থসংকটের কথা জানিয়েছে। তবে আশার কথা হলো, ৯৭ শতাংশ ব্যবসায়ী এমএফএস (মোবাইল ব্যাংকিং) ব্যবহার করেন এবং ৮৭ শতাংশের অনলাইন উপস্থিতি রয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে ডিজিটাল ঋণের সুযোগ ও পরিধি বাড়ানো সম্ভব।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, প্রথাগত ঋণের বাইরে নারী উদ্যোক্তা ও সেবা খাতের ডিজিটাল ঋণের প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। ডিজিটাল ঋণ সম্পর্কে পূর্বে ধারণা ছিল না এমন নারীদের ৮৩.১ শতাংশই এ ধরনের ঋণে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। তবে বর্তমানে বাজারে বিদ্যমান ডিজিটাল ঋণগুলো ৫০ হাজার টাকার নিচে এবং স্বল্পমেয়াদি হওয়ায় ব্যবসার চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। ৮৫ শতাংশ উদ্যোক্তাই অন্তত তিন লাখ টাকার ওপরে এবং ছয় মাসের বেশি মেয়াদি ঋণ পছন্দ করেন।

অনুষ্ঠানে দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট প্রধান ফিলিপ গ্রাওভাক বলেন, “আমাদের মূলধন বা নীতিমালার অভাব নেই, প্রয়োজন এ দুটির মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা।” সাবেক অর্থসচিব ও সিএজি মুসলিম চৌধুরী এসএমই খাতের বাস্তবতার নিরিখে আলাদা নীতি প্রণয়নের ওপর জোর দেন। গবেষণাপত্রে ডিজিটাল ঋণের পরীক্ষামূলক উদ্যোগ, ডেটাভিত্তিক বিকল্প ক্রেডিট স্কোরিং, ছোট অঙ্কের ঋণকে লাভজনক করা এবং দায়িত্বশীল নীতি কাঠামোর জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশন, ভিসা, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন