প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত: আরও ২ মার্কিন সেনা নিহত, মোট মৃত্যু ১৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে জর্ডানে আরও দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এর ফলে এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত মোট ১৬ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হলো। শনিবার (১৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মার্কিন সামরিক সূত্র জানিয়েছে, জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় এই দুই সেনা নিহত হন। ওই হামলার পর থেকে এখনও একজন মার্কিন সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নিহত সেনাসদস্যদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী, তাদের পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি অবহিত করার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হবে।
চলমান এই সংঘাতটি মূলত আকাশপথে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে সরাসরি স্থলযুদ্ধ না হয়েও মার্কিন সেনাদের এই প্রাণহানির ঘটনা প্রমাণ করে যে, তারা কতটা বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন ইরানের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতেই এই সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে জর্ডানের এই সর্বশেষ প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে শনিবার পর্যন্ত তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো মন্তব্য বা বিবৃতি দেননি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই দফায় দফায় মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে:
২৮ ফেব্রুয়ারি: কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় প্রথম ৬ মার্কিন সেনা নিহত হন।
১ মার্চ: সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হওয়া হামলায় আহত আরও এক সেনা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

মার্চের শেষ সপ্তাহ: ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘কেসি-১৩৫’ জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আরও ৬ সেনাসদস্য নিহত হন।


সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা: আরব সাগরে একটি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মার্কিন নৌবাহিনীর একজন পাইলট প্রাণ হারান।
অন্যদিকে, গত তিন সপ্তাহে মার্কিন হামলায় ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত শুক্রবার একটি সেতুতে চালানো হামলায় আটজন নিহত হওয়ার খবরও রয়েছে। এছাড়াও এই চলমান সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত ক্রু, বিদেশি শ্রমিক এবং ইসরায়েল ও লেবাননের বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন