প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০১:১১ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত “আনসার সদস্যকে ঘুষ দিলেই মিলছে ‘ভিআইপি’ সুবিধা” শিরোনামের একটি অভিযোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী তাৎক্ষণিক তদন্ত ও অনুসন্ধান পরিচালনা করেছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই ২০২৬ (শনিবার) বিকেল আনুমানিক ৩:০০টায় ঢাকা মহানগর আনসার (ডিএমএ) পশ্চিম জোনের শেরেবাংলা নগর থানাধীন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে টহল ডিউটিতে নিয়োজিত এপিসি মো. বাহারুল ইসলামের কাছে একজন রোগীর স্বজন পরীক্ষার ফি জমা দেওয়ার সহযোগিতা চান। মানবিক বিবেচনায় তিনি রোগীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে হাসপাতালের ক্যাশ কাউন্টারে পরীক্ষার ফি জমা দেন এবং প্রাপ্ত রসিদ সংশ্লিষ্ট রোগীর স্বজনের কাছে হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে রোগীর স্বজনের অনুরোধে তিনি সিরিয়াল কাউন্টারে রোগীর দ্রুত সিরিয়ালের বিষয়ে অনুরোধ করেন। এ সময় রোগীর স্বজন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তাকে ১০০ টাকা বকশিশ প্রদান করলে তিনি তা গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় এ ধরনের অর্থ গ্রহণ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নীতিমালা, পেশাগত আচরণবিধি এবং শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাহিনীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আনসার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী শৃঙ্খলা, সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুর্নীতি, উৎকোচ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করে—এমন যেকোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাহিনীর 'জিরো টলারেন্স' নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। কোনো সদস্যের ব্যক্তিগত অনিয়ম বা অসদাচরণকে বাহিনী কখনোই প্রশ্রয় দেয় না; বরং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া মাত্রই দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
জনগণের অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক প্রতিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে শিগগিরই একটি সার্বক্ষণিক কল সেন্টার চালু করা হবে। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যেকোনো সময় এ বাহিনী-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ, এই সেবার মাধ্যমে জানানো যাবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করাই বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অঙ্গীকার।
মন্তব্য করুন