প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ১১:৪৪ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

মালয়েশিয়া-চীনে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরে কী হতে যাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জোর প্রস্তুতি চলছে। এটিই হবে গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর তার প্রথম বিদেশ সফর।

এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরের জন্য ভারত ও চীনকে এড়িয়ে তৃতীয় একটি দেশকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে। তার এই সফরকে ঘিরে এখন পর্যন্ত যে পরিকল্পনা রয়েছে, সে অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করবেন। এরপর ২৩ জুন তিনি কুয়ালালামপুর থেকেই বেইজিং যাবেন এবং ২৬ জুন ঢাকায় ফিরবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বেইজিং গিয়ে চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত-চীন বিতর্ক এড়ানো কিংবা সম্পর্কে ভারসাম্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা এবং ভারতকে নিয়ে জনমনে থাকা প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় নিয়ে কৌশলগত কারণেই প্রথম সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়ে থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও চীনের সাথে সম্পর্কের গতি আরও বাড়বে, যার মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে জটিলতার অবসান ও বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর ক্ষেত্র তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সফরে কী হবে

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশের দিক থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে শ্রমবাজার বিষয়ে। পাশাপাশি শিক্ষাখাতেও দেশটির সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা আছে।

বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির তালিকায় চতুর্থ দেশ হিসেবে রয়েছে মালয়েশিয়া। তারপরেও দেশটির শ্রমবাজার নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে বাংলাদেশ। সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন কারণে এখনো বাংলাদেশের জন্য বন্ধ আছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার।

গত এপ্রিলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন কুয়ালালামপুর সফর করেন। পরে ঢাকায় ফিরে মাহ্দী আমিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জনশক্তি পাঠানোর বিষয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

এরপর পনেরই জুন ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকের পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে বড় সুযোগ তৈরি হবে বলে তারা আশা করছেন।

ঢাকায় কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে মালয়েশিয়া যেসব বাংলাদেশি শ্রমিকের বৈধ কাগজপত্র নেই, তাদের বৈধতা দেওয়া এবং শ্রমবাজারটি উন্মুক্ত করে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রফতানিতে সব বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এর বাইরে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি শিক্ষার্থী যেন দেশটিতে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য যেতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে দুই দেশের সরকারেরই আগ্রহের কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

তবে মালয়েশিয়ার চেয়ে বেশি কৌতূহল তৈরি হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত বেইজিং সফর করবেন।

এ সফরে প্রায় পনেরটির মতো সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবার আভাস পাওয়া গেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে এসব সমঝোতা স্মারক হবে বলে জানা যাচ্ছে।

তবে এই সফরে যে কয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে তার মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, যমুনায় আরেকটি সেতু, বাংলাদেশে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল।

সম্প্রতি একনেকে চীনের ঋণে ৪ হাজার কোটি টাকার একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময়েই বেইজিংয়ে একটি বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজনের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি চীনা মুদ্রায় একটি বন্ড চালুর প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ।

কর্মকর্তারা বলছেন, এ সফরে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ। এছাড়া কৃষি প্রযুক্তি হস্তান্তরেও চীনকে প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের দিক থেকে।

এর বাইরেও চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), মুদ্রা বিনিময় চুক্তি এবং বাংলাদেশে একটি চীনা ব্যাংক স্থাপনের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে থাকা বিনিয়োগ চুক্তিগুলোর আপগ্রেডেশনের প্রস্তাব আলোচনায় আসতে পারে বলে কর্মকর্তারা ধারণা দিয়েছেন।

মালয়েশিয়ায় কেন প্রথম সফর

দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘকাল ধরেই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় ভারত ও চীনকে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতই বেশি গুরুত্ব বা প্রাধান্য পেয়েছে।

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উভয় দেশই একে অপরকে ব্যাপক সমর্থন দিয়ে আসছিল, যা নিয়ে তখন বিএনপির দিক থেকে প্রকাশ্যেই উষ্মা প্রকাশ করে বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চীন দ্রুতই তখনকার অন্তর্বর্তী সরকার এবং বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ আওয়ামী লীগ বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি করে।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে ভারতের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে পৌঁছায়। তবে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে থেকেই ভারত বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।

এরপর ভারতীয় নেতাদের বাংলাদেশে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগও অনেকটাই দৃশ্যমান হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গত জানুয়ারিতে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার ছেলে তারেক রহমানের কাছে শোকবার্তা পাঠিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নির্বাচনে বিএনপির জয়লাভের পর তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন ভারতের স্পিকার ওম বিড়লা।

ওদিকে এর আগে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে চীন সরকারের আমন্ত্রণে দফায় দফায় চীন সফরে গিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর থেকে শুরু করে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

এছাড়া ঢাকাতেও চীনা কূটনীতিকরা সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গে নিয়মিত দেখা সাক্ষাৎ করে আসছেন।

আবার শুরু থেকেই ভারত ও চীন উভয় দেশের তরফ থেকে তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথের পরপরই ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের’ আমন্ত্রণপত্রটি তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

এর কয়েকদিন পর ২৪ ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান। ওই সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ুন কবির এক ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী যখন বিদেশ সফর শুরু করবেন তখন চীন সফরের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

পরে মে মাসে চীনের প্রধানমন্ত্রীর দিক থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বেইজিং সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি আসে ঢাকায়।

কিন্তু এর মধ্যে গত এপ্রিলে সরকারের একজন মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা মালয়েশিয়া সফরে যান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তাদের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং এতে মূলত প্রথম বিদেশ সফরের জন্য ভারত ও চীনকে এড়িয়ে তৃতীয় একটি দেশকে বেছে নেওয়ার চিন্তাই প্রাধান্য পেয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

শুরুতে ভুটান ও ভারতে প্রধানমন্ত্রী যাবেন এমন খবর বেরিয়েছিল। কিন্তু এখন তিনি মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন। আসলে চীন সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী কোথায় গেলেন, তা নিয়ে চীন চিন্তা করে না। ফলে মালয়েশিয়া আগে যাওয়াতে কোনো ক্ষতি নেই। বরং দুই দেশেই সহযোগিতা বৃদ্ধির অনেক ক্ষেত্র আছে, যা প্রধানমন্ত্রীর সফরে গুরুত্ব পাবে বলে আশা করছি।
—মুন্সি ফয়েজ আহমেদ, চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত
 

বিশ্লেষকরা যা বলছেন

চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর দেশ দুটির সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং সম্পর্কে নতুন গতি আনবে।

তিনি বলেন, শুরুতে ভুটান ও ভারতে প্রধানমন্ত্রী যাবেন এমন খবর বেরিয়েছিল। কিন্তু এখন তিনি মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন। আসলে চীন সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী কোথায় গেলেন, তা নিয়ে চীন চিন্তা করে না। ফলে মালয়েশিয়া আগে যাওয়াতে কোনো ক্ষতি নেই। বরং দুই দেশেই সহযোগিতা বৃদ্ধির অনেক ক্ষেত্র আছে, যা প্রধানমন্ত্রীর সফরে গুরুত্ব পাবে বলে আশা করছি।

তার মতে, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বাণিজ্য ও অর্থনীতিসহ অনেক বিষয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সাথেও সুসম্পর্কের জন্য দুই পক্ষকেই উদ্যোগী হতে হবে নিজ স্বার্থেই।

আঞ্চলিক রাজনীতির বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. ফরিদ হোসেন বলেন, প্রথম সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া প্রধানমন্ত্রীর একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, যা আঞ্চলিক রাজনীতি ও কূটনীতির ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগ ও শ্রমবাজার বিষয়ে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আবার আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে দেশটির নিরপেক্ষ ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি চীন ও পশ্চিমাদের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে দেশটির। আমার ধারণা দুই শক্তিধর দেশ ভারত ও চীনের বিতর্ক এড়িয়ে সেজন্যই প্রধানমন্ত্রী কুয়ালালামপুরকে বেছে নিয়েছেন।

তারেক রহমান চীন ও ভারতের মধ্যে ভারসাম্য দেখাতে চাইছেন। কিন্তু একজন উপদেষ্টাকে নিয়ে দিল্লিতে যা ঘটেছে, সেটি দুই দেশের সম্পর্কেরও একটা প্রতিফলন। অর্থাৎ নতুন সরকারের সাথে তাদের সম্পর্ক এখনো প্রত্যাশিত মানে আসেনি।
—ফরিদ হোসেন, আঞ্চলিক রাজনীতির বিশ্লেষক

তার মতে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর চীন যেভাবে রাজনৈতিকদলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করেছে, ভারতের দিক থেকে তেমনটি দেখা যায়নি এবং সেটিও সফরের জন্য চীনকে আগে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

ফরিদ হোসেন বলেন, তারেক রহমান চীন ও ভারতের মধ্যে ভারসাম্য দেখাতে চাইছেন। কিন্তু একজন উপদেষ্টাকে নিয়ে দিল্লিতে যা ঘটেছে, সেটি দুই দেশের সম্পর্কেরও একটা প্রতিফলন। অর্থাৎ নতুন সরকারের সাথে তাদের সম্পর্ক এখনো প্রত্যাশিত মানে আসেনি।

আঞ্চলিক রাজনীতির এই বিশ্লেষক বলেন, আবার চীন বাংলাদেশে ভারতের তুলনায় বড় বিনিয়োগকারী। পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ রাজনৈতিক দল, এমনকি ছাত্র প্রতিনিধিদেরও চীন সফর করতে দেখছি নিয়মিত। পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সফর বিনিময় বেড়েছে। এসব কিছুই চীন সফরে যেতে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্বুদ্ধ করে থাকতে পারে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

মন্তব্য করুন