প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০১:৩৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম উত্তেজনার পর অবশেষে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর মুহূর্ত থেকেই কার্যকর হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি দুই দেশের মধ্যকার হওয়া এই ১৪ দফা চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেছে।
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনসে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে এই সমঝোতা স্মারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই প্রথম বড় কোনো কূটনৈতিক সাফল্য।
চুক্তির মূল বিষয়সমূহ ও ১৪ দফা:
১. ‘সব ফ্রন্টে’ যুদ্ধের অবসান: যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে।
২. অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা: উভয় পক্ষ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানাবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে।
৩. ৬০ দিনের সময়সীমা: আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করবে।
৪ & ৫. হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তকরণ ও নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার: চুক্তি অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ও নিরাপদে উন্মুক্ত করে দেবে ইরান। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশ থেকে সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেবে।
৬. ইরানের পুনর্গঠনে বিশাল তহবিল: ইরানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠন করা হবে। তবে এতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো অর্থ দেবে না, কেবল লাইসেন্স ও আইনি অনুমতি দেবে।
৭. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনার মাধ্যমে ধাপে ধাপে ইরানের ওপর থেকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবসহ সব ধরনের একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে ওয়াশিংটন।
৮. পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার শর্ত: ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে সম্মত হয়েছে। বর্তমানে তেহরানের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে ধ্বংস বা মান কমিয়ে ফেলা হবে।
৯ & ১০. বর্তমান অবস্থা বজায় রাখা: চূড়ান্ত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা ধরে রাখবে। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না এবং তেল রপ্তানি ও ব্যাংকিং লেনদেনে কিছু ছাড় দেওয়া হবে।
১১. জব্দ অর্থ ফেরত: সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের অর্থ ছাড় দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র, যা ধাপে ধাপে কার্যকর হবে।
১২-১৪. তদারকি ও আইনি বাধ্যবাধকতা: চুক্তিটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা থাকবে এবং এই সমঝোতাকে পরবর্তীতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশনের মাধ্যমে আইনি বাধ্যবাধকতা দেওয়া হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তিকে ‘পারফরম্যান্স-ভিত্তিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, অর্থাৎ ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেই কেবল চুক্তির সব সুবিধা ভোগ করতে পারবে।
মন্তব্য করুন