প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ১০:৫১ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বিশ্বকাপে মাঠে ঢুকতে নিষেধাজ্ঞা

স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা এবারও টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে মাঠে নামছে। তবে দলের সমর্থকদের একটি অংশকে ঘিরে ভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-এর তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের কাছে প্রায় ১৩ হাজার ব্যক্তির একটি তালিকা পাঠিয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের ভরণপোষণ বা চাইল্ড সাপোর্ট পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন।

সরকারের দাবি, যারা নিজেদের সন্তানের মৌলিক দায়িত্ব পালন করেন না, তাদের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে বুয়েনস আইরেসের মেয়র হোর্হে মাখরি বলেছেন, সন্তানদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ ব্যক্তিদের স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ কর্মসূচির আওতায়। উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, যারা পারিবারিক দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলেও বিনোদন ও খেলাধুলা উপভোগে অর্থ ব্যয় করেন। তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে ভরণপোষণ বকেয়া সংক্রান্ত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত কয়েক মাস ধরে এসব ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে বকেয়া দায়ে অভিযুক্ত কেউ বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে দর্শক হিসেবে প্রবেশ করতে না পারেন।

২০২৩ সালে ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর পর থেকে এটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩২৮টি ফুটবল ম্যাচে ৪০ লাখের বেশি দর্শককে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এ সময় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ১ হাজার ১৬৬ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শুধু ভরণপোষণ বকেয়া রাখা ব্যক্তিরাই নন, সহিংসতা ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত সমর্থকদেরও নিষিদ্ধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী পাত্রিসিয়া বুররিচ জানিয়েছেন, মোট ১৫ হাজারের বেশি ব্যক্তির তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, স্টেডিয়ামে সহিংসতা বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত কেউ যেন বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে প্রবেশ করতে না পারে, সেটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

মন্তব্য করুন