প্রকাশিত: ৫ জুলাই, ২০২৬, ০২:২৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

বিশ্ব কাঁপানো ইতিহাসের ভয়াবহ কিছু সাইবার হামলার ঘটনা জানুন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে মানুষের জীবনযাত্রা যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সাইবার অপরাধের ঝুঁকিও। বর্তমানে হ্যাকাররা বিভিন্ন কৌশলে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এমনকি সরকারি সংস্থার গোপন তথ্য চুরি করে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া কিছু আলোচিত সাইবার হামলা প্রযুক্তি নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। এর মধ্যে র‍্যানসমওয়্যার হামলা থেকে শুরু করে ডেটা লঙ্ঘনের মতো ঘটনাগুলো প্রযুক্তি বিশ্বের জন্য বড় সতর্কবার্তা।

কাসিয়া ও রেভিল র‍্যানসমওয়্যার হামলা

২০২১ সালের জুলাই মাসে প্রযুক্তি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কাসিয়া একটি বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়। এই হামলার পেছনে ছিল রেভিল নামে পরিচিত একটি রুশ হ্যাকার গোষ্ঠী। তারা কাসিয়ার সফটওয়্যারের মাধ্যমে সোডিনোকিবি নামক র‍্যানসমওয়্যার ছড়িয়ে দেয়। এর ফলে বিশ্বের এক হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হ্যাকাররা মুক্তিপণ হিসেবে সাত কোটি ডলার দাবি করেছিল। এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় মার্কিন সরকার হ্যাকারদের ধরতে এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে এবং পরে ইউক্রেনের এক নাগরিককে এই হামলার জন্য অভিযুক্ত করা হয়।

স্টাক্সনেট ম্যালওয়্যারের ধ্বংসলীলা

সাইবার হামলার ইতিহাসে স্টাক্সনেট ম্যালওয়্যার আক্রমণ একটি মাইলফলক হয়ে আছে। ২০১০ সালে আবিষ্কৃত এই কম্পিউটার ওয়ার্মটি বিশেষভাবে শিল্প ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছিল। ইউএসবি ড্রাইভের মাধ্যমে এটি মাইক্রোসফট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে প্রবেশ করত এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করে। এটি সাইবার যুদ্ধের ইতিহাসে অত্যন্ত উন্নত ও পরিকল্পিত সাইবার অস্ত্রের উদাহরণ হিসেবে পরিচিত।

ম্যারিয়ট হোটেলস গ্রুপের বিশাল তথ্য ফাঁস

২০১৮ সালের নভেম্বরে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হোটেল প্রতিষ্ঠান ম্যারিয়ট হোটেলস গ্রুপের তথ্যভাণ্ডারে বিশাল হানা দেয় হ্যাকাররা। এই হামলায় ৫০ কোটিরও বেশি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়ে যায়। হ্যাকাররা অতিথিদের পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য, পাসপোর্ট নম্বর, ঠিকানা এবং ফোন নম্বর হাতিয়ে নেয়। ঘটনার পর ম্যারিয়ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের বিনামূল্যে তথ্য পর্যবেক্ষণ সেবার ব্যবস্থা করে যাতে তাদের তথ্যের অপব্যবহার না হয়।

রকইউ ডেটা লঙ্ঘন

২০০৯ সালের ডিসেম্বরে রকইউ নামের একটি গেমিং কোম্পানির ডেটাবেস থেকে তিন কোটি ২০ লাখেরও বেশি ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। তদন্তে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীদের পাসওয়ার্ড কোনো এনক্রিপশন ছাড়াই সাধারণ টেক্সট আকারে সংরক্ষণ করেছিল। হ্যাকাররা এসকিউএল এর একটি দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ডেটাবেসে প্রবেশ করে এবং সমস্ত তথ্য চুরি করে। এই ফাঁস হওয়া পাসওয়ার্ডগুলো পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সাইবার অপরাধীদের জন্য বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট এবং নিরাপদ পাসওয়ার্ড ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়কেই তথ্য সুরক্ষার বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। প্রযুক্তির এই যুগে তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, যাতে ভবিষ্যতে এমন সাইবার অপরাধ থেকে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।

মন্তব্য করুন