প্রকাশিত: ৪৭ মিনিট আগে, ১২:১৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বহিষ্কৃত যুবদল নেতা চঞ্চলকে ঘিরে চাঁদাবাজির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউমার্কেটের মার্কেট ও ফুটপাতের দোকান নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ; কেন্দ্রীয় যুবদলের বহিষ্কারাদেশের পরও সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় চাঁদাবাজি, দোকান ও ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ এবং পেশিশক্তি প্রদর্শনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নিউমার্কেট থানা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব কে এম চঞ্চলকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ১২ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি পেশিশক্তি প্রদর্শন করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে কে এম চঞ্চলসহ নিউমার্কেট ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের পাঁচ নেতাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করে। একই বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কৃতদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজিসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাত ও দোকান থেকে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে আসে। একটি প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, চাঁদা তোলায় বাধা দেওয়ার পর চঞ্চলের নেতৃত্বে লোকজন হামলা চালায়; তবে ওই ঘটনায় চঞ্চল বা তার অনুসারীদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করে তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মার্কেটের দোকানিদের জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে, গাউছিয়া, নূর ম্যানশন, ইসমাইল ম্যানশনসহ নিউমার্কেট এলাকার বিভিন্ন মার্কেটের দোকানদার ও মার্কেট-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, কোনো কোনো দোকান বন্ধ করে দিয়ে পরে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে। এমনকি দোকানভেদে দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করার অভিযোগও রয়েছে। টাকা না দিলে দোকান খুলতে দেওয়া হবে না—এমন হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।

ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকেও চাঁদা দাবির অভিযোগ
নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতের হকারদের নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ফুটপাতে দোকান বসানোর বিনিময়ে নিয়মিত চাঁদা দাবি করা হতো এবং চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হকারদের বসতে বাধা দেওয়া হতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হকার নেতার দাবি, চাঁদা না দিলে কোনো কোনো দোকান বন্ধ করে দেওয়া এবং ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকটি দোকান বন্ধ করার পর দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছিল।

কয়েকটি দোকানকে ঘিরে নির্দিষ্ট অভিযোগ
অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নূরানি মার্কেটের সামনে মনিরের চায়ের দোকান, নূর ম্যানশনের সামনে জিতুর বাবার দোকান এবং মল্লিকা মার্কেটের সামনে মিজানের ভাইয়ের দোকানকে ঘিরেও চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, মল্লিকা মার্কেটের সামনে একটি দোকান বন্ধ করে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে কয়েকজন নেতার হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান হয় বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।


বহিষ্কারের পরও সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন
কেন্দ্রীয় যুবদলের বহিষ্কারাদেশের পরও কে এম চঞ্চলের সঙ্গে কারা সাংগঠনিক বা রাজনৈতিকভাবে যোগাযোগ রাখছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে নিউমার্কেট থানা যুবদলের আহ্বায়ক মিজান ব্যাপারীর সঙ্গে বহিষ্কৃত নেতাদের যোগাযোগ ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, একই ঘটনায় নিউমার্কেট থানা যুবদলের আহ্বায়ক মিজান ব্যাপারীকে কেন্দ্রীয় যুবদলের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার তথ্যও এসেছে।

দলীয় নির্দেশনার পরও যদি বহিষ্কৃত কোনো নেতার সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রম চলতে থাকে, তাহলে তা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—এ প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হকারদের একটি অংশের দাবি, চাঁদাবাজির অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। কারা দোকান ও ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করছে, কারা চাঁদা তুলছে এবং এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত না করে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য গ্রহণ এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় বিষয়গুলো যাচাই করার আহ্বানও রয়েছে।

নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও হকারদের বক্তব্য, রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এতে সাধারণ ব্যবসায়ী ও হকারদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ফিরবে বলে তারা মনে করছেন। তবে কে এম চঞ্চলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনের পরবর্তী সংস্করণে সংযুক্ত করা হবে।

মন্তব্য করুন