প্রকাশিত: ১৯ ঘন্টা আগে, ০৭:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব অনুসন্ধানী প্রতিবেদন : রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার নীলক্ষেতে অবস্থিত গাউসুল আজম সুপার মার্কেটকে ঘিরে দোকান বরাদ্দ, পজিশন হস্তান্তর, সমিতির অর্থ লেনদেন, দোকান বন্ধ করে দেওয়া, ভয়ভীতি, হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মার্কেটের সভাপতি মোতালেব মিয়া। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমেদ জসিম ও গাউসুল আজম সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের একটি অংশ।
জালাল আহমেদ জসিমের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সভাপতি পদে থেকে মোতালেব মিয়া মার্কেটের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেছেন। দোকান বরাদ্দ, পজিশন হস্তান্তর ও অন্যান্য খাতে বিপুল অর্থ লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনের মধ্যে প্রায় ১৪২ কোটি টাকার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি তার।
তবে ১৪২ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে—এমন অভিযোগের সমিতির সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমেদ আরও বলেন, ১৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ যদি সত্য না হয়ে থাকে, তাহলে বরাদ্দ হিসেবে পাওয়া ওই টাকার হিসাব এখন পর্যন্ত মোতালেব সাহেব কেন দেননি—এ প্রশ্নের জবাব তিনি সাধারণ মানুষের কাছে দেবেন।
জালাল আহমেদের অভিযোগ, তিনি টাকার হিসাব চাওয়ায় ভাড়াটিয়া গুন্ডাবাহিনী দিয়ে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
জালাল আহমেদ বলেন, এসব অভিযোগেরও জবাব তিনি সাধারণ মানুষের কাছে চান। তার প্রশ্ন, মোতালেব সাহেব যদি সত্যিই নির্দোষ হয়ে থাকেন, তাহলে টাকার হিসাব দিতে আপত্তি কোথায়?
এ বিষয়ে সমিতির ব্যাংক হিসাব, অডিট রিপোর্ট, ক্যাশবুক, লেজার, দোকান বরাদ্দ রেজিস্টার, রসিদ ও পজিশন হস্তান্তরের দলিল যাচাই প্রয়োজন।
৫ আগস্টের পর ‘ভুতুড়ে’ মার্কেট—জসিমের বক্তব্য
জালাল আহমেদ জসিম বলেন, “৫ আগস্টের পর কমিটি পালিয়ে যায়। মার্কেটে ভুতুড়ে অবস্থার সৃষ্টি হয়। আমি বিদ্যুতের মনিরকে দিয়ে কারেন্ট লাইন দিয়েছিলাম। মোতালেব সিস্টেম করে তার ভাতিজা আলাউদ্দিনকে পাঠায়। আলাউদ্দিন আবার নানা অনিয়ম শুরু করে।”
তার অভিযোগ, এ সময় হোল্ডিং ট্যাক্স, বিদ্যুৎ বিল, পজিশন হস্তান্তরের দলিল ও ভুয়া সদস্য তৈরির মতো অনিয়ম করা হয়। এমনকি কামালকে ভুয়া সম্পাদক বানানোর অভিযোগও করেন তিনি।
জসিমের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডে তিনি বাধা দেওয়ায় মোতালেব মিয়ার ভাতিজা বিষয়টি তাকে জানান এবং পরবর্তীতে তিনি মোতালেব মিয়ার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে মার্কেটের অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
দোকান বন্ধ, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ও ব্যবসা ছাড়ার অভিযোগ
জসিমের অভিযোগ, তার প্রতিবাদের পর মোতালেব মিয়া ও সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে তার ব্যবসা-বাণিজ্য ও দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তার বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়।
তিনি বলেন, “আমার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়া হয়। ৫ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়ার ১৭ দিন পর বিদ্যুৎ লাইন দেওয়া হয়।”
জসিমের দাবি, বিদ্যুৎ বিলের অজুহাতে তার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরে ওই টাকা ফেরত দেওয়া হয় এবং চাঁদার টাকা দেওয়ার পর বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় তার ব্যবসার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, কাস্টমার হারিয়েছেন, অর্ডার করা কাজ ফেরত দিতে হয়েছে, জরিমানা গুনতে হয়েছে এবং মেশিনও নষ্ট হয়েছে। একপর্যায়ে মার্কেট থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
জসিমকে মারধর, জিম্মি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
জালাল আহমেদ জসিমের বক্তব্য অনুযায়ী, তাকে শায়েস্তা করার জন্য সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজনকে ব্যবহার করা হয়েছে। তার বাসায় ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগও করেন তিনি।
জসিমের ভাষ্য, সমবায় অধিদপ্তরে দেওয়া অভিযোগের তদন্ত শুরু হওয়ার পর তাকে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এমনকি তার ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে একপর্যায়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন বলেও জানান।
পরবর্তীতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর সেটিও প্রত্যাহারের জন্য তার বাসা ও কারখানায় লোক পাঠিয়ে চাপ এবং হামলার অভিযোগ করেন তিনি।
মকবুল সরদারের বিরুদ্ধে জসিমের গুরুতর অভিযোগ
জসিমের বক্তব্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে মোতালেব মিয়া, তার ছেলে আবু সাঈদ আকাশ, ভাতিজা আলাউদ্দিন এবং মকবুল হোসেন সরদারসহ কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক নিয়ে গিয়ে মারধর ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জসিম বলেন, তাকে মকবুল হোসেন সরদারের তোপখানা টাওয়ারের ১১ তলায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দুইটি সমিতির সাদা প্যাড ও তিনটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে তার দাবি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। জসিমের দাবি, তাকে বলা হয়েছিল—“ওকে মেরে ১০ তলা থেকে ফেলে দেন, আমাদের ১০ কোটি টাকা খরচ হলেও আমরা করব।”
জসিম আরও দাবি করেন, তাকে ওই এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং এলাকায় পাওয়া গেলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে তিনি পরিবারসহ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।
এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও আদালতের নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
সমবায় অধিদপ্তরের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন
জসিম জানান, তিনি সমবায় অধিদপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পর তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার দাবি, কামালের অবৈধভাবে সম্পাদক হওয়ার বিষয়টি তদন্তে সত্যতা পেয়েছে, কিন্তু মোতালেব মিয়ার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনিয়ম, অবৈধভাবে দলিল দেওয়া ও সমিতির সম্পদসংক্রান্ত অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্তে আনা হয়নি।
তার অভিযোগ, ১৩টি বিষয়ে তদন্ত হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র একটি বিষয়ে তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। এ তদন্তের সঙ্গে জেলা সমবায় কর্মকর্তা হাসমত ও মনিরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করেন তিনি।
জসিমের দাবি, তদন্ত প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে তার বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে।
সম্পাদক পদ ও মকবুলকে সদস্য করার চাপের অভিযোগ
জসিম বলেন, তিনি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাইলেও তাকে কোনো দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং তাকে মোতালেব মিয়ার ব্যক্তিগত অফিসে নিয়ে মকবুল হোসেন সরদারকে সদস্য করার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জসিমের ভাষ্য, মার্কেটের নিয়মকানুন সম্পর্কে জানতে চাইলে তাকে বলা হয়—“কোনো নিয়ম-কানুন নাই, তার নিয়মে চলে।”
তার অভিযোগ, মকবুলের কোনো দোকান না থাকা সত্ত্বেও তাকে সদস্য করার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে মোতালেব মিয়া, তার ভাতিজা ও ছেলে মিলে তাকে মার্কেট থেকে বিতাড়িত করেন।
১৪২ কোটি টাকার হিসাব কোথায়?
মার্কেটের দোকান বরাদ্দ ও পজিশন হস্তান্তরকে ঘিরে জালাল আহমেদ জসিমের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—প্রায় ১৪২ কোটি টাকার কথিত লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব কোথায়?
তার দাবি, গত দীর্ঘ সময়ে দোকান বরাদ্দ, পজিশন হস্তান্তর, সদস্য অন্তর্ভুক্তি ও অন্যান্য কার্যক্রমে বিপুল অর্থ আদায় হয়েছে। এসব অর্থের কত অংশ সমিতির ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে এবং কত টাকা কোথায় ব্যয় হয়েছে—তা টেস্ট অডিটের মাধ্যমে বের করা সম্ভব।
মোতালেব মিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ
সমিতির আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি মোতালেব মিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও করেছেন জালাল আহমেদ জসিম।
জসিমের দাবি, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে মোতালেব মিয়া বারিধারা, সাভার, আশুলিয়াসহ ঢাকা ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
তার দাবি, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে মোতালেব মিয়া ও সংশ্লিষ্টদের সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করা হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।
‘টাকা দিয়ে মুখ বন্ধের চেষ্টা’—জসিমের অভিযোগ
জালাল আহমেদ জসিমের অভিযোগ, মোতালেব মিয়া বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ ব্যয় করে সমবায় দপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের মুখ বন্ধ বা প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে তিনি ধারণা করেন।
মোতালেব ও মকবুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোতালেব মিয়াকে একাধিকবার ফোন করেন এই প্রতিবেদক। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন এবং পরে কথা বলবেন বলে জানান। কিন্তু পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর কল রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে মকবুল হোসেন সরদারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনিও কল রিসিভ করেননি।
তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের অবস্থান প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
গাউসুল আজম সুপার মার্কেটের বিরোধে এখন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু জালাল আহমেদ জসিমের বক্তব্যে উঠে আসা দোকান বরাদ্দ, পজিশন হস্তান্তর, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, চাঁদা দাবি, হামলা, ভয়ভীতি, সমিতির সম্পদ এবং ১৪২ কোটি টাকার কথিত লেনদেনের বিষয়গুলো নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
বিশেষ করে ২০০১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সমিতির ব্যাংক হিসাব, অডিট রিপোর্ট, ক্যাশবুক, লেজার, দোকান বরাদ্দ রেজিস্টার, পজিশন হস্তান্তরের দলিল, সদস্য রেজিস্টার ও সাধারণ সভার রেজুলেশন পরীক্ষা করা হলে প্রকৃত আর্থিক চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।
একই সঙ্গে জসিমের করা মামলা, থানায় দেওয়া অভিযোগ, সাধারণ ডায়েরি এবং সমবায় অধিদপ্তরের তদন্ত-সংক্রান্ত নথিও যাচাই করা প্রয়োজন।
শেষ কথা
গাউসুল আজম সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ও জালাল আহমেদ জসিমের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে সভাপতি মোতালেব মিয়ার দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব, মার্কেটের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগকে ঘিরে। পাশাপাশি ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে মকবুল হোসেন সরদারের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগগুলো সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন; আর অভিযোগের কোনোটি ভিত্তিহীন হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া জরুরি। তাই পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত ও টেস্ট অডিট এখন সময়ের দাবি।
প্রতিবেদকের নোট: এই প্রতিবেদনে মোতালেব মিয়া, মকবুল হোসেন সরদার ও অন্যান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো মূলত জালাল আহমেদ জসিম ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালতের নথি, সরকারি রেকর্ড, সমবায় অধিদপ্তরের তদন্ত, ব্যাংক হিসাব ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে এসব অভিযোগের কাগজ যুক্ত করে দেওয়া হলো। অভিযুক্তদের বক্তব্যের জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
চলবে
মন্তব্য করুন