প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১০:৪৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালীর দুমকিতে পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙন, নিঃস্ব শতাধিক পরিবার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আলগী গ্রামে পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে অন্তত দুই শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আরও শতাধিক বসতবাড়ি ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে বাহেরচর এলাকাতেও পাল্লা দিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

রোববার (২১সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পায়রা নদীর ভাঙনে আলগী গ্রামের বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে নদীর স্রোত বেড়ে যাওয়ায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ওয়াপদা বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকাও এখন হুমকির মুখে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫-৬ বছরে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি হারিয়েছে। অনেকেই বেড়িবাঁধের পাশে বা সরকারি রাস্তার ধারে অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জীবিকা হারিয়ে কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা জাকির বিশ্বাস বলেন, “ভাঙনে আমরা সব হারিয়েছি। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁইও নেই।” মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার সংকট রয়েছে।

ভাঙনে আলগী গ্রামের গোরস্থানের একটি অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং বাকি অংশও ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে মৃতদের দাফন নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, আলগী গ্রাম প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। বাহেরচর এলাকাতেও ভাঙন দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন বলেন, ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য করুন