প্রকাশিত: ২৬ আগষ্ট, ২০২৬, ০১:১২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ধর্ম ডেস্ক : আজ বুধবার, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি; মানবজাতির ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ দিনগুলোর একটি—পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী, এই পবিত্র দিনেই বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কার পবিত্র ভূমিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং একই দিনে তাঁর নবুয়তের দায়িত্ব সমাপ্ত করে ইহধাম ত্যাগ করেন।
বিশ্বনবীর আগমন মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহর এক অশেষ নিয়ামত। জাহিলিয়াতের অমানিশা ও ঘোর অন্ধকার দূরে ঠেলে দিয়ে তিনি মানবসমাজকে দেখিয়েছিলেন সত্য ও আলোর পথ। তাঁর অক্লান্ত সংগ্রাম, সুমহান আদর্শ ও সান্নিধ্যে সেকালের অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজ পরিণত হয়েছিল মানবতার ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ স্বর্ণযুগে।
মহানবী (সা.) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কার কুরাইশ বংশে জন্ম গ্রহণ করেন। শৈশবেই তিনি পিতা, মাতা ও দাদাকে হারিয়ে এতিম হন। পার্থিব কোনো আশ্রয়ের বদলে তিনি সরাসরি মহান আল্লাহর বিশেষ কুদরতেই লালিত-পালিত ও পরিবর্ধিত হন। ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে ৪০ বছর বয়সে তিনি লাভ করেন নবুয়ত। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর অকাতরে অমানুষিক নির্যাতন ও প্রতিকূলতা সহ্য করে তিনি দ্বীন-ই-ইসলামের সুমহান বাণী বিশ্বের কোণে কোণে পৌঁছে দেন।
তিনি এমন এক অনন্য কালজয়ী জীবনদর্শন রেখে গেছেন, যা অনুসারীদের বিশ্বের বুকে একটি আত্মমর্যাদাশীল ও বিজয়ী জাতিতে পরিণত করেছিল। নবীজির শিক্ষা, দিকনির্দেশনা ও জীবনধারাকে লালন করেই মুসলমানরা নীতি-নৈতিকতা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, বিদ্যাপীঠ ও রাজনীতিতে বিশ্বসভায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পেরেছিল।
পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের মুসলিমরা পরম শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি উদ্যাপন করছেন। দিবসটি পালনে দেশে আজ সাধারণ সরকারি ছুটি রয়েছে। ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে মহানবীর (সা.) শান্তি, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণের তাগিদ দেন। একইসঙ্গে হিংসা, হানাহানি ও বৈষম্য ভুলে সাম্য ও প্রগতির ভিত্তিতে এক নতুন সমাজ গড়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণীতে উল্লেখ করেন, মহানবী (সা.)-এর পবিত্র জীবনী ও আদর্শকে আঁকড়ে ধরেই কেবল একটি শান্তিময়, বৈষম্যহীন ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব।
পবিত্র এই দিনটি উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশসহ দেশের বিভিন্ন ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। রাজধানীসহ দেশের সব মসজিদ, মাদরাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোরআন তিলওয়াত, আলোচনা সভা, দরুদ পাঠ এবং মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে শেষ নবীর সুমহান জীবন, চরিত্র ও মানবতার কল্যাণে তাঁর অবদান স্মরণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন