প্রকাশিত: ১৪ আগষ্ট, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

শিশুদের জন্য বদলে যাচ্ছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম!

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : ৫৭ কোটি ডলার! বাংলাদেশি মুদ্রায় অঙ্কটা কয়েক হাজার কোটি টাকা। এত বড় জরিমানাই এবার গুনতে হতে পারে মার্ক জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠিত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে। কিন্তু চমক শুধু জরিমানার অঙ্কে নয়। আদালত এমন কিছু নির্দেশ দিয়েছেন, যা বদলে দিতে পারে শিশু-কিশোরদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের ধরন। কমাতে হবে নোটিফিকেশন, বেঁধে দিতে হবে ব্যবহারের সময়, এমনকি এআই চ্যাটবটের সঙ্গে শিশুদের কথোপকথনেও বসাতে হবে নতুন নিরাপত্তার দেয়াল।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত মেটাকে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এই অর্থ শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা তহবিলে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মামলাটি করেছিলেন অঙ্গরাজ্যটির অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেস। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য। 

রাউল তোরেসের অভিযোগ ছিল, মেটা এমনভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম তৈরি করেছে, যাতে শিশু-কিশোরেরা দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে থাকে ও আসক্ত হয়ে পড়ে। পাশাপাশি শিশুদের যৌন শোষণ থেকে রক্ষায়ও প্রতিষ্ঠানটি যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
এর আগে একই মামলায় একটি জুরি বোর্ডও রায় দিয়েছিল মেটার বিরুদ্ধে। তাদের সিদ্ধান্ত ছিল, তরুণ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে মেটা। তবে এবার আদালতের নির্দেশ শুধু অর্থদণ্ডে আটকে নেই। আগামী ৫ বছর শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তায় ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে একাধিক পরিবর্তন আনতে বলা হয়েছে। শিশুদের জন্য মাসিক ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। অতিরিক্ত নোটিফিকেশন কমাতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের যোগাযোগে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অভিযোগ পর্যালোচনার ব্যবস্থাও করতে হবে শক্তিশালী। 

এদিকে বিশেষ নজরে এসেছে মেটার এআই চ্যাটবটও। গেলো বছর রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে মেটার অভ্যন্তরীণ নথির বরাতে এআই চ্যাটবট নিয়ে উদ্বেগের তথ্য সামনে এসেছিল। এবার আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, নিউ মেক্সিকোর কোনো শিশু যেন মেটার এআই চ্যাটবটের সঙ্গে প্রেম বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কথোপকথনে জড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তবে এই অভিযোগ মানছে না মেটা। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, অনলাইনে কিশোরদের নিরাপত্তায় নেওয়া নিজেদের ব্যবস্থার ওপর তারা আত্মবিশ্বাসী। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও করবে তারা। আর মেটার আইনি লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না। ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডেও ২৯টি অঙ্গরাজ্যের করা বড় একটি মামলার মুখোমুখি হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সেখানেও অভিযোগ প্রায় একই, শিশুদের আসক্ত করে রাখার মতো করে তৈরি করা হয়েছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ৪০টির বেশি অঙ্গরাজ্য ও ১ হাজার ৩০০টির বেশি স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নেমেছে আইনি লড়াইয়ে। 

মন্তব্য করুন