প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রশিদ আহমদ,বান্দরবান প্রতিনিধি : জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে টানা রেকর্ডভাঙা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড (পাবউবো) নির্মিত বিভিন্ন সড়ক। অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে বোর্ডের নির্মিত ৫১টি সড়কের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়ক দ্রুত মেরামত ও সংস্কারে প্রায় ২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত।
গত ৫ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা অতিভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রায় সবকটি উপজেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস, আকস্মিক বন্যা ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুর্গম পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১০ জুলাই—মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে বান্দরবানে ৮৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে একটানা ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সর্বোচ্চ রেকর্ড। এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢল সৃষ্টি হয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তাদের নির্মিত ৩০৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ৫১টি সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং ও আরসিসি অংশ ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কালভার্ট, ড্রেন ও রিটেইনিং ওয়াল। ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে বহু স্থানে। এসব ক্ষয়ক্ষতির কারণে অনেক এলাকায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের একাংশ ধসে যাওয়ায় যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই এলাকার জনসাধারণ। ঝুঁকি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
দ্রুত সংষ্কারের দাবি জানিয়ে স্থানীয়রা বলছেন, এখন সংষ্কার না হলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। এতে দুর্গম এলাকার সঙ্গে জেলা শহরের যোগাযোগ আবারও বিচ্ছিন্ন করতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিট অফিস জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত ও সংস্কারের জন্য প্রায় ২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও যোগাযোগের প্রধান ভরসা এসব সড়ক। তাই জনদুর্ভোগ কমাতে এবং নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করা জরুরী মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
মন্তব্য করুন