প্রকাশিত: ১৯ ঘন্টা আগে, ১২:৫০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

আসামে বন্যায় একদিনে ২১ মৃত্যু, পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। সোমবার থেকে মঙ্গলবার মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রাজ্যটিতে বন্যার বলি হয়েছেন ২১ জন। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আসাম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এএসডিএমএ) প্রকাশিত সর্বশেষ বুলেটিনে প্রাণহানির এই তথ্য জানানো হয়েছে। চলতি জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ব্রহ্মপুত্র, বুরহিদিহিং, দিসাং ও ধানসিঁড়িসহ রাজ্যের প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে হু-হু করে বাড়ছে পানি, তৈরি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। এএসডিএমএ-র তথ্যমতে, রাজ্যের ৩৫টি জেলার মধ্যে ১৬টি জেলার অন্তত ৮৭২টি গ্রাম বর্তমানে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা পৌনে চার লাখ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৬০০ জনে।

বন্যার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে শিবসাগর, চারাইদেও ও জোরহাট জেলায়। শুধু শিবসাগরেই পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন সাড়ে তিন লাখেরও বেশি মানুষ। এছাড়া গোলাঘাট, কামরূপ, নাগাঁও, লখিমপুর ও তিনসুকিয়াসহ অন্যান্য জেলাগুলোতেও জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্যার পানির নিচে তলিয়ে গেছে সড়ক ও রেলপথ। ফলে ভেঙে পড়েছে যোগাযোগব্যবস্থা। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিবসাগরের প্রধান সেকশনগুলোতে ট্রেন চলাচল স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত ১৯ হাজার ১০০ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

দুর্গত এলাকাগুলোতে আটকা পরা মানুষকে উদ্ধারে একযোগে কাজ করছে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য বাহিনী (এসডিআরএফ), ভারতীয় সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খোলা হয়েছে ১০১টি ত্রাণশিবির, যেখানে প্রায় ১০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পরিস্থিতি ও ত্রাণ তৎপরতা সশরীরে পর্যবেক্ষণ করতে বুধবারে চারাইদেও, শিবসাগর ও জোরহাটসহ উপদ্রুত এলাকাগুলো সফরের কথা নিশ্চিত করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।

(সূত্র: এনডিটিভি)

মন্তব্য করুন