প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:৩৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মন্ত্রীর পরিদর্শনেও বদলায়নি নোয়াখালী হাসপাতাল, টাকা ছাড়া মেলে না সিট

নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের পরও আসেনি কোনো পরিবর্তন। আগের মতোই চলছে সবগুলো ওয়ার্ড। অনেক ওয়ার্ডে গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরের পর থেকে কোনো চিকিৎসকের দেখা মেলেনি। 

সরেজমিনে আজ বুধবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় এখনও ময়লা পানি ও বর্জ্য পড়ে আছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, আজও বাড়তি টাকা না দিলে মিলছে না চিকিৎসা সেবা। টাকা ছাড়া হাসপাতালের কোনো বিছানা নেওয়া যাচ্ছে না। 

এদিকে মৌখিকভাবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার পর আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় হাসপাতাল পরিদর্শন করেন সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন। সিভিল সার্জনের পরিদর্শনের সময় তার কাছে দুজন ভুক্তভোগী সরাসরি অভিযোগ করেছেন। সিভিল সার্জন তাৎক্ষণিক বিষয়টি খোঁজ নিলে অতিরিক্ত টাকাগুলো (ঘুষ) তাদের ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সরকারি চাকরিপ্রার্থী যারা বিভিন্ন সরকারি দফতরে যোগদানের জন্য মেডিকেল রিপোর্ট করাতে হাসপাতালে এসেছেন তাদের থেকে বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন। এক্সরে করাতে সরকারি ফি ২০০ টাকার জায়গায় তাদের থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য টেস্ট করাতেও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে তাদের অভিযোগ।  হামের আইসোলেশন ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেখানেই গত তিন দিন কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিদর্শন করেননি। মেডিকেল অফিসাররাই দিনে একবার রোগীদের দেখতে যান। সারাদিনে রোগীরা আর কোনো চিকিৎসকের দেখা পান না। 

হুমায়ুন কবির নামে এক রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, আমরা এখানে এসেছি চিকিৎসা সেবা নিতে। গরমের ভেতর অনেক কষ্টে আমাদের এখানে থাকতে হয়। কিন্তু এখানে ডাক্তারদের দেখা পাওয়া যায় না। দিনে একবার মেডিকেল অফিসাররা আসেন। অন্য সময় আমাদের রোগীদের অবস্থা খারাপ হলেও তাদের আর পাওয়া যায় না। সবাই বাইরে চেম্বার করা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। আমরা রোগীদের চিকিৎসার কথা ভেবে ভয়ে কিছু বলতেও পারি না।  

হামের আইসোলেশন ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেখানেই গত তিন দিন কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিদর্শন করেননি। মেডিকেল অফিসাররাই দিনে একবার রোগীদের দেখতে যান। সারাদিনে রোগীরা আর কোনো চিকিৎসকের দেখা পান না। 

হুমায়ুন কবির নামে এক রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, আমরা এখানে এসেছি চিকিৎসা সেবা নিতে। গরমের ভেতর অনেক কষ্টে আমাদের এখানে থাকতে হয়। কিন্তু এখানে ডাক্তারদের দেখা পাওয়া যায় না। দিনে একবার মেডিকেল অফিসাররা আসেন। অন্য সময় আমাদের রোগীদের অবস্থা খারাপ হলেও তাদের আর পাওয়া যায় না। সবাই বাইরে চেম্বার করা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। আমরা রোগীদের চিকিৎসার কথা ভেবে ভয়ে কিছু বলতেও পারি না।  

হাসপাতালে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নোয়াখালী জেলার সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, আমি মৌখিকভাবে হাসপাতালের দায়িত্ব পেয়েছি। এখনো লিখিত কোনো অর্ডার পাইনি। তবুও আমি আজ সকাল ৯টায় হাসপাতালে এসে এখানের চিকিৎসক সবার সঙ্গে কথা বলেছি। বিভিন্ন বিভাগে গিয়েছি এবং পুরো হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। হাসপাতালে জনবল সংকট যেমন রয়েছে, পাশাপাশি অনেক ধরনের অনিয়মও রয়েছে। আমরা অনিয়মগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। এবং অনিয়মগুলো চিহ্নিত করে এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল আকস্মিক পরিদর্শন শেষে অনিয়মের প্রমাণ মেলায় হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। দালাল ও বহিরাগতদের তোপের মুখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেনকে। 

মন্তব্য করুন