নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিতে পারেনি অপরাধী চক্র। প্রায় একই সময়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এবং শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক দুটি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে আনসার সদস্যরা। কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের এই তাৎক্ষণিক ও প্রশংসনীয় তৎপরতায় একদিকে যেমন সরকারি মালামালসহ চোর আটক হয়েছে, অন্যদিকে উদ্ধার হয়েছে এক নিখোঁজ শিশু।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার রাত আনুমানিক সোয়া নয়টায়, চমেক হাসপাতালের ইমার্জেন্সি গেটের সামনে। সেখানে টহল ডিউটিরত এপিসি মোঃ মফিজুল হক এবং আনসার মোঃ মতিয়ার হোসেন হাসপাতালের এক অস্থায়ী লিফটম্যানকে হাতেনাতে আটক করেন। আটককৃত ব্যক্তির নাম হৃদয় মিয়া; তার কাছ থেকে হাসপাতালের ৪০টি স্যালাইন, তুলা এবং খাদ্য বিভাগের ১ কেজি মুরগির মাংস উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হৃদয় জানায়, আলম নামের এক আউটসোর্সিং কর্মী মালামালগুলো বাসায় পৌঁছে দিতে তাকে দিয়েছিল। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মালামালসহ তাকে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
ঠিক একই সময়ে অন্য এক মানবিক ও সফল ঘটনার সাক্ষী হয় চট্টগ্রাম শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সেখানে পার্কিং গেটের পাশে কান্নারত অবস্থায় ওয়াজিহা (০৪) নামের একটি কন্যা শিশুকে দেখতে পান কর্তব্যরত আনসার নিঘুম আনন্দ রায় এবং এপিসি মোঃ ওয়াজেদ আলী। শিশুটি তার পরিবারকে খুঁজে পাচ্ছিল না। আনসার সদস্যরা তাৎক্ষণিক সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করে শিশুটিকে নিজেদের হেফাজতে নেন।
এরপর শুরু হয় পরিবারের সন্ধান। আনসার সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টা ও তৎপরতায় দ্রুতই শিশু ওয়াজিহার বাবা-মাকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়।
অবশেষে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সন্তানকে ফিরে পেয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে আনসার বাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অভিভাবকেরা। কর্তব্যনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের এই জোড়া নজির চট্টগ্রামে আনসার বাহিনীর ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।
মতামত