ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
লিড নিউজ ২৪

১৭৮ টন থেকে ২৬৩ টন, বাড়তি ৮৫ টন ভুট্টাবীজ কোথা থেকে এল?

বিএডিসির বীজের মজুত, গুণগত মান ও ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন; কেন্দুয়ায় ধানবীজে জাতের মিশ্রণের অভিযোগ) ফোল্ডার


প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বিএডিসির বীজের মজুত, গুণগত মান ও ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন; কেন্দুয়ায় ধানবীজে জাতের মিশ্রণের অভিযোগ) ফোল্ডার

গাজীপুর প্রতিনিধি : ভারত থেকে আমদানি করা হাইব্রিড ভুট্টাবীজের ২০০ মেট্রিক টনের মধ্যে বিক্রি হয়েছে মাত্র ২২ টন। অবিক্রীত থাকার কথা ১৭৮ টন। অথচ পরবর্তী মৌসুমে একই জাতের ভুট্টাবীজের মজুত দেখানো হয়েছে ২৬৩ মেট্রিক টন। ফলে আগের মজুতের সঙ্গে নতুন হিসাবের ৮৫ টন পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) বীজের মজুত ব্যবস্থাপনা, গুণগত মান ও নতুন করে বীজ কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগে বিষয়টি সামনে এসেছে। একই সময়ে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বিএডিসির সরবরাহ করা ধানবীজে একাধিক জাতের বীজ মিশে থাকার অভিযোগও উঠেছে। তবে ভুট্টাবীজের মজুতের পার্থক্য কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট নথি ও বিএডিসির বক্তব্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ মৌসুমে ‘ধান, গম ও ভুট্টার উন্নততর বীজ উৎপাদন এবং উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় ভারত থেকে বি-৩৩৫৫ জাতের ৩০০ মেট্রিক টন হাইব্রিড ভুট্টাবীজ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম চালানে ২০০ মেট্রিক টন বীজ দেশে আসে। বাকি ১০০ টন আমদানির প্রক্রিয়া তৎকালীন কৃষিসচিবের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশে আসা ২০০ টনের মধ্যে মাত্র ২২ টন বিক্রি হয় এবং ১৭৮ টন অবিক্রীত থেকে যায় বলে নথিতে দাবি করা হয়েছে। অবিক্রীত বীজ পরবর্তী মৌসুমে বিক্রির জন্য সংরক্ষণের বিষয়টি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত প্রকল্পের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভায় আলোচিত হয়েছিল বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।

কিন্তু ২০২৬–২৭ মৌসুমে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা ৮ অক্টোবরের একটি কার্যপত্রে বি-৩৩৫৫ জাতের ভুট্টাবীজের মজুত ২৬৩ মেট্রিক টন দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। আগের হিসাবের ১৭৮ টনের সঙ্গে নতুন হিসাবের পার্থক্য ৮৫ টন। এই অতিরিক্ত পরিমাণের উৎস কী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে নতুন কোনো চালান, স্থানান্তর, হিসাব সমন্বয় কিংবা অন্য কোনো কারণে এই পার্থক্য হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। কেবল দুই হিসাবের ব্যবধান দিয়ে বীজ মেশানো, অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আমদানি করা ভুট্টাবীজের অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বীজের অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ছিল; সংরক্ষণের পর তা আরও কমে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে আসে। এ বীজের সঙ্গে দেশীয় হাইব্রিড ভুট্টাবীজ মেশানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জাতের বীজের নমুনা পরীক্ষা, অঙ্কুরোদ্গম পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং সংরক্ষণসংক্রান্ত নথি ছাড়া অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। অভিযোগে বিএডিসির কয়েকজন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার কথাও বলা হয়েছে; তবে তাঁদের দায় নির্ধারণের জন্য স্বাধীন যাচাই ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।

এদিকে একই জাতের ভুট্টাবীজ নতুন করে কেনার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে বীজ কেনার জন্য ৪ কোটি ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার একটি ক্রয়প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে, যার দরপত্র আইডি ১৩০৪৮০৪। এতে ভারতের বি-৩৩৫৫ জাতের ভুট্টাবীজ সরবরাহের বিষয় রয়েছে এবং বঙ্গ অ্যাগ্রিটেক লিমিটেডের নাম এসেছে। আগের মৌসুমের অবিক্রীত বীজের প্রকৃত মজুত, ব্যবহারযোগ্যতা ও গুণগত মান যাচাইয়ের পর নতুন করে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। একই সঙ্গে ক্রয়পদ্ধতি, দরপত্রের শর্ত, অনুমোদন ও প্রযোজ্য বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নথি যাচাই করে দেখা প্রয়োজন। শুধু নতুন করে কেনার উদ্যোগ থাকলেই অনিয়ম প্রমাণিত হয় না।

অন্যদিকে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বিএডিসির সরবরাহ করা ধানবীজে জাতের মিশ্রণ নিয়ে কৃষকদের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ব্রি ধান-৮৮ জাতের নামে সরবরাহ করা বীজে ব্রি ধান-৮৯, ব্রি ধান-৯২ ও ব্রি ধান-২৯ জাতের বীজ পাওয়া গেছে। এক জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ হলে ধান পাকার সময়, পরিচর্যা ও ফসল কাটার ব্যবস্থাপনায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। এতে কৃষকের উৎপাদন ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে। তবে বীজের নমুনা পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট কৃষকদের তথ্য যাচাই করে মিশ্রণের পরিমাণ এবং ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

অভিযোগসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, কেন্দুয়ায় এ ঘটনায় ১ হাজার ৫৪৫ জন কৃষক এবং ৩৮২ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যানের সরকারি ভিত্তি ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উজ্জ্বল সাহা ২৩ এপ্রিল এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে একাধিক জাতের ধানের উপস্থিতি নিশ্চিত করে তদন্ত চলার কথা বলেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। ব্রিফিংয়ের বছর এবং তাঁর বক্তব্যের সঠিক সূত্র প্রকাশের আগে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ভুট্টাবীজের মজুত ও ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবং কেন্দুয়ার ধানবীজের অভিযোগ দুটি পৃথক ঘটনা। এগুলোর মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া না গেলে একটিকে অন্যটির প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। তবে দুই ক্ষেত্রেই বীজের মান নিয়ন্ত্রণ, মজুতের স্বচ্ছ হিসাব, সরবরাহের আগে পরীক্ষার কার্যকারিতা এবং কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষার প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে উন্নত বীজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি সংস্থার মাধ্যমে সরবরাহ করা বীজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে মজুতের হিসাবের পার্থক্য, নতুন ক্রয়ের যৌক্তিকতা এবং বীজের অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা দরকার। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

লিড নিউজ ২৪

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


বিএডিসির বীজের মজুত, গুণগত মান ও ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন; কেন্দুয়ায় ধানবীজে জাতের মিশ্রণের অভিযোগ) ফোল্ডার

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
গাজীপুর প্রতিনিধি : ভারত থেকে আমদানি করা হাইব্রিড ভুট্টাবীজের ২০০ মেট্রিক টনের মধ্যে বিক্রি হয়েছে মাত্র ২২ টন। অবিক্রীত থাকার কথা ১৭৮ টন। অথচ পরবর্তী

লিড নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক:
প্রধান সম্পাদক : কাজী রওনাক হোসেন
বার্তা সম্পাদক :
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত লিড নিউজ ২৪
বিএডিসির বীজের মজুত, গুণগত মান ও ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন; কেন্দুয়ায় ধানবীজে জাতের মিশ্রণের অভিযোগ) ফোল্ডার
0:00 0:00
1.0x