প্রকাশিত: ১০ ঘন্টা আগে, ১২:৪১ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুর সদর উপজেলার ‘ফ্লাক্সেন ড্রেস মেকার লিমিটেড’ তৈরি পোশাক কারখানার সামনে ভোররাতে দায়িত্ব পালনকালে এক অনন্য মানবিকতার নজির গড়লেন দুই আনসার সদস্য। সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকের দেওয়া পানির সাথে চেতনানাশক খেয়ে অচেতন হয়ে পড়া বন্যা আক্তার (৩৬) ও তার পাঁচ বছরের ছেলে সন্তানকে উদ্ধার করেছেন তারা।
২৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার ভোররাত আনুমানিক সোয়া একটার দিকে কর্তব্যরত আনসার সদস্য মোঃ স্বপন মিয়া ও তাপস বৈদ্য রাস্তার পাশে ঐ মা ও শিশুকে দেখতে পান। সিএনজিচালক ও অজ্ঞান পার্টি তাদের সর্বস্ব লুটে নিয়ে সেখানে ফেলে যায়। শিশুটির থেকে জানা যায়, মায়ের গার্মেন্টস ছুটির পর সিএনজিতে উঠলে চালক তাদের অন্য স্থানে নিয়ে চেতনানাশক পান করায়। লুটেরা চালক বন্যা আক্তারের মোবাইল ফোন, নাকফুল ও সোনার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে তাদের রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তীব্র সংকটের মুখে আনসার সদস্যরা মানবিক কারণে তাদের পাশের দোকানের বারান্দায় নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন। মশার কয়েল জ্বালিয়ে, রুটি, কলা, পানি ও তেঁতুলের টক খাইয়ে মায়ের চেতনা ফেরানোর চেষ্টা করেন তারা।
নিরাপত্তা রক্ষার্থে ভুক্তভোগীর ব্যাগে থাকা নগদ ৩০০ টাকা ও মোবাইলের চার্জার নিজেদের হেফাজতে রাখেন আনসার সদস্যরা। সকালে বন্যা আক্তার কিছুটা সুস্থ হলে তার দেওয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। ভিডিও কলের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ থেকে তার ভাই বোন ও ভাগ্নেকে শনাক্ত করেন।
অবশেষে সকাল আটটার দিকে এ নারীর ভাই এলে স্থানীয় জনসাধারণ ও কারখানার সিকিউরিটির উপস্থিতিতে ঐ নারী ও শিশুকে তার ভাইয়ের কাছে নিরাপদ ও অক্ষত অবস্থায় হস্তান্তর করা হয়। দায়িত্বের বাইরে গিয়ে আনসার সদস্যদের এই দায়িত্বশীল ও মানবিক তৎপরতা সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন