প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:৫৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

হুথিদের টার্গেটে মক্কাসহ তিন শহর, ‘সংকটে’ বন্ধু খুঁজছে সৌদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে হামলার শঙ্কা বাড়ছে। মক্কা, জেদ্দা ও তায়েফসহ দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি শহরে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোতেও হামলার প্রভাব পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হুথিদের মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইছে রিয়াদ; এমনকি ইসরায়েলের কাছ থেকেও গোয়েন্দা সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে যোগাযোগের খবর সামনে এসেছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সৌদি সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে জাতীয় জরুরি সতর্কতা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়। তাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে এবং সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে। সতর্কবার্তায় বিপদের নির্দিষ্ট ধরন জানানো হয়নি। তবে বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলা হয়। সম্ভব হলে ভবনের ভেতরে জানালা থেকে দূরে কোনো অভ্যন্তরীণ কক্ষে অবস্থান করতে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকতে বলা হয়েছে।

খোলা জায়গা, জানালা, বারান্দা ও ছাদ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি বাইরে থাকা ব্যক্তিদের কাছের ভবনে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। গাড়িচালকদেরও সেতু ও উঁচু ভবনের কাছ থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জনসমাগম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে কেবল সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
পরে সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানায়, জেদ্দা, তায়েফ, আবহা, জাজান, আলউলা ও ইয়ানবুসহ ছয় এলাকায় জারি করা সতর্কতার তাৎক্ষণিক বিপদ কেটে গেছে। এসব সতর্কতা হুথিদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জারি করা হয়েছিল।

এর আগে হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা ও তায়েফে ১৩ জন বেসামরিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এসব হামলার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে।

তেল অবকাঠামোতেও চাপ
হুথিদের হামলার প্রভাব পড়েছে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতেও। লোহিত সাগরের তীরে কৌশলগত ইয়ানবু বন্দরে অশোধিত তেল জাহাজীকরণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার কয়েক দিন পর ইয়ানবু বন্দরের তেল লোডিংও স্থগিত হয়।

পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহনের প্রধান মাধ্যম এই পাইপলাইন। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রফতানির জন্য এটি সৌদির গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ। ফলে পাইপলাইন ও ইয়ানবু—দুই পথেই সমস্যা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি তেল রফতানিতে বিঘ্ন এবং অন্যান্য সরবরাহ-সংকটের আশঙ্কায় মঙ্গলবার ব্রেন্ট crude-এর দাম প্রায় ৩ ডলার বেড়েছে।

সংকটে সহযোগী খুঁজছে রিয়াদ
হুথিদের সামরিক অগ্রযাত্রা ও সৌদি ভূখণ্ডে ধারাবাহিক হামলার মধ্যে রিয়াদ এখন আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান হুথিদের মোকাবিলায় বিভিন্ন আরব দেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকমের মাধ্যমে ইসরায়েলের কাছ থেকেও গোয়েন্দা সহায়তা চেয়েছেন। বিষয়টি অজ্ঞাত কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইসরায়েল হায়োম’ জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিদের অবস্থান ও সক্ষমতা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়াই এ যোগাযোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। মিসর ও উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশের কাছেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সৌদি বা ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

এদিকে সৌদি যুবরাজ মিসর সফর করে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। হুথিদের অগ্রযাত্রা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা এ আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে শায়খ সুদাইসের উদ্বেগ
মক্কাসহ পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর ধর্মীয় বিষয়ক সভাপতি শায়খ ড. আব্দুর রহমান আস-সুদাইস সৌদি আরবের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মানুষের জীবন, মর্যাদা ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সৌদি জনগণকে শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গুজব বা যাচাইহীন তথ্যের পরিবর্তে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিয়েছেন। পবিত্র স্থানসহ সৌদি আরব ও মুসলিম বিশ্বের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য তিনি দোয়া করেন।

মন্তব্য করুন