প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৮:৫৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে চলমান গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানিসহ জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা চেয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, বর্তমানে গ্যাসসংকটের কারণে দেশের মানুষ যে কষ্ট ভোগ করছে, বিশেষ করে গৃহস্থালি পর্যায়ে নারী, শিল্প খাতের উদ্যোক্তা এবং গণপরিবহনের যাত্রীরা যে দুর্ভোগে পড়েছেন, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের গ্যাসের চাহিদা দুটি উৎস থেকে পূরণ করা হয়। এর একটি হলো দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত গ্যাস। অন্যটি আমদানি করা এলএনজি, যা এফএসআরইউর মাধ্যমে রিগ্যাসিফাই করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। গত সপ্তাহে একটি এফএসআরইউতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার পর ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটির মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গত কয়েক দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ কমাতে হয়েছে। এতে আবাসিক, শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গণপরিবহন— সব খাতেই সংকট তৈরি হয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এফএসআরইউ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এক্সেলারেট এনার্জির সঙ্গে জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, আজ সকালে এক্সিলারেট এনার্জির এ অঞ্চলের প্রধান কর্মকর্তা ও ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের সমস্যাগুলো ও সরকারের উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকেও বিষয়টি উপলব্ধি করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ত্রুটিগ্রস্ত এফএসআরইউ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। আশা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতে সেখান থেকে ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। পরবর্তী সপ্তাহের শেষ নাগাদ এফএসআরইউটি পুরোপুরি সচল করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সংকটের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন যে সংকট নিরসনে তার এবং তার দেশের পক্ষ থেকে কী ধরনের সহযোগিতা করা সম্ভব, তা তিনি সংশ্লিষ্ট টিম ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত জানাবেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, মানুষের এই সমস্যা ও কষ্ট আমাদেরও কষ্ট দিচ্ছে। জনগণ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে তাদের কষ্ট নিরসনের জন্য। তাই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল দিনরাত কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীও সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন এবং সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছেন।

এদিকে আজ বিকেলে এ বিষয়ে নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
পোস্টে তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে টেলিফোন কথোপকথনের সময়, আমরা মালয়েশিয়া-বাংলাদেশের সম্পর্ক শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছি, বিশেষ করে পারস্পরিক সুবিধার জন্য শক্তি এবং বিনিয়োগ ক্ষেত্রে।

তিনি লিখেন, বাংলাদেশ যে গ্যাস সরবরাহের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, তার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা কারণে তিনি মালয়েশিয়ার সহায়তা অনুরোধ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে পেট্রোল নিউট্রাল সরবরাহের জন্য বিনিয়োগ, যাতে দেশের জরুরি চাহিদা পূরণ করা যায়। টেলিফোন কথোপকথনের সময় অর্থনৈতিক সহযোগিতা- যার মধ্যে অভিযোগাত্মক বিনিয়োগ এবং দেশগুলির উচ্চ সুবিধার লক্ষে দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার জন্য স্ট্র্যাটেজি সহযোগিতার আলোচনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়া দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক শক্তিশালী করার জন্য অভিযোগাত্মক বিনিয়োগ, অভিযোগাত্মক বিনিয়োগ এবং দেশের জনগন দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেয়। 
 

মন্তব্য করুন