প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে অবশেষে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দিল্লির জন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি ছিল তার পদত্যাগ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে এক এক্স বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘আমি এই দেশের যুবকদের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি এবং ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করি। ভারতের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণ করাই আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নৈতিক সংকল্প। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর (মোদি) দূরদর্শী নেতৃত্বে জাতির সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’ এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবর পৌঁছানো মাত্রই যন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থলে উল্লাস ফেটে পড়ে। পদত্যাগের খবরের প্রতিক্রিয়ায় সিজেপি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে লিখেছে, ‘ছাত্রশক্তির জয় হোক।’
মূলত, মোদি সরকারের সঙ্গে শনিবার তৃতীয় দফা আলোচনার কথা ছিল সিজেপি। কিন্তু তার আগেই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে প্ল্যাটফর্মটি বলেছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা নয়।
সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা শনিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো আপস চলবে না। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নেতিবাচক জবাব এলে আলোচনার আর কোনো অর্থ থাকে না।
এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং শুক্রবার বিকেলে কনস্টিটিউশন ক্লাবে সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করেন। এনডিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার অনুষ্ঠিত আলোচনায় সরকার বিক্ষোভকারীদের দুটি প্রধান দাবিতে নীতিগতভাবে একমত হয়। এগুলো হলো—বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ প্রদান। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি জন্য একদিনের সময় চেয়েছিল মোদি সরকার।
শনিবার সকালেও সরকারি সূত্র এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানাচ্ছিল যে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করছেন না। তবে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দেওয়া ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম এবং তীব্র রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার পর অবশেষে মোদি সরকার এই দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এদিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁস মোকাবিলায় গত দুই দিনে কেন্দ্র একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার বিচারের জন্য দ্রুত বিচার আদালত স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আইনে আরও কঠোর শাস্তি ও জরিমানার বিধান যুক্ত করতে সংশোধনী আনার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় শিক্ষা সচিবকে অপসারণ এবং পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা এনটিএর ৪৭ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে সরকার। পাশাপাশি শিগগিরই একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কার্যক্রমের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
মন্তব্য করুন